নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার ভোরে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় মোট ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভোরে একদল সশস্ত্র হামলাকারী বিমানবন্দর ও এর আশপাশের নিরাপত্তা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করলে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অধিকাংশ হামলাকারী নিহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফজরের নামাজের কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে তারা বিস্ফোরণের কারণ বুঝতে না পারলেও পরে জানতে পারেন যে বিমানবন্দর এলাকায় বড় ধরনের সশস্ত্র হামলা চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে চারজন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, বিস্ফোরক, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলি।
হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল সংঘর্ষ শেষ হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঘিরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে।
আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর প্রতিরোধের কারণেই বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের অন্যতম কৌশলগত স্থাপনা। এটি দেশের প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দর হওয়ার পাশাপাশি সামরিক কার্যক্রমের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
গত এক দশক ধরে জঙ্গি সহিংসতা ও সশস্ত্র বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নাইজার। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব দেশের সামরিক সরকারগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে। এর অংশ হিসেবে ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং শত শত নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তবে সর্বশেষ এই হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেছে কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার ভোরে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় মোট ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভোরে একদল সশস্ত্র হামলাকারী বিমানবন্দর ও এর আশপাশের নিরাপত্তা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করলে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অধিকাংশ হামলাকারী নিহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফজরের নামাজের কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে তারা বিস্ফোরণের কারণ বুঝতে না পারলেও পরে জানতে পারেন যে বিমানবন্দর এলাকায় বড় ধরনের সশস্ত্র হামলা চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে চারজন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, বিস্ফোরক, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলি। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল সংঘর্ষ শেষ হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঘিরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর প্রতিরোধের কারণেই বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের অন্যতম কৌশলগত স্থাপনা। এটি দেশের প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দর হওয়ার পাশাপাশি সামরিক কার্যক্রমের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গত এক দশক ধরে জঙ্গি সহিংসতা ও সশস্ত্র বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নাইজার। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব দেশের সামরিক সরকারগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে। এর অংশ হিসেবে ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং শত শত নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ এই হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেছে কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত তথ্য দেয়নি। https://www.bd24live.com/bangla/797348 2026-06-19T04:11:21.000Z 2026-06-19T04:11:21.000Z {} {"url":"https://www.bd24live.com/bangla/public/uploads%2F2026-06%2FDiori%20Hamani%20International%20Airport_original_1781842239.jpg","type":"image","length":null}নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার ভোরে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় মোট ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভোরে একদল সশস্ত্র হামলাকারী বিমানবন্দর ও এর আশপাশের নিরাপত্তা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করলে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অধিকাংশ হামলাকারী নিহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফজরের নামাজের কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে তারা বিস্ফোরণের কারণ বুঝতে না পারলেও পরে জানতে পারেন যে বিমানবন্দর এলাকায় বড় ধরনের সশস্ত্র হামলা চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে চারজন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, বিস্ফোরক, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলি। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল সংঘর্ষ শেষ হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঘিরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর প্রতিরোধের কারণেই বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের অন্যতম কৌশলগত স্থাপনা। এটি দেশের প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দর হওয়ার পাশাপাশি সামরিক কার্যক্রমের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গত এক দশক ধরে জঙ্গি সহিংসতা ও সশস্ত্র বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নাইজার। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব দেশের সামরিক সরকারগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে। এর অংশ হিসেবে ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং শত শত নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ এই হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেছে কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।{"title":"নাইজারের প্রধান বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৩৫","link":"https://www.bd24live.com/bangla/797348","description":"নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার ভোরে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় মোট ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।\r\nপ্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভোরে একদল সশস্ত্র হামলাকারী বিমানবন্দর ও এর আশপাশের নিরাপত্তা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করলে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অধিকাংশ হামলাকারী নিহত হয়।\r\nস্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফজরের নামাজের কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে তারা বিস্ফোরণের কারণ বুঝতে না পারলেও পরে জানতে পারেন যে বিমানবন্দর এলাকায় বড় ধরনের সশস্ত্র হামলা চলছে।\r\nকর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে চারজন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, বিস্ফোরক, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলি।\r\nহামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল সংঘর্ষ শেষ হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঘিরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।\r\nবৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে।\r\nআফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর প্রতিরোধের কারণেই বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।\r\nডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের অন্যতম কৌশলগত স্থাপনা। এটি দেশের প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দর হওয়ার পাশাপাশি সামরিক কার্যক্রমের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।\r\nগত এক দশক ধরে জঙ্গি সহিংসতা ও সশস্ত্র বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নাইজার। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।\r\nসাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব দেশের সামরিক সরকারগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে। এর অংশ হিসেবে ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং শত শত নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।\r\nতবে সর্বশেষ এই হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেছে কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।","guid":"https://www.bd24live.com/bangla/797348","pubdate":"Fri, 19 Jun 2026 10:11:21 +0600","media:content":{"props":{"medium":"image","width":864,"height":486,"url":"https://www.bd24live.com/bangla/public/uploads%2F2026-06%2FDiori%20Hamani%20International%20Airport_original_1781842239.jpg"},"value":null}}